অবশেষে জীবনের সবচেয়ে ঘটনাবহুল, মাধুর্যপূর্ন, ভালোবাসা ও মায়ার বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেল। অস্তের লাল মেঘ দেখে ভয় হচ্ছিল, এই তো চির অন্ধকার নেমে আসছে। এই রাত কবে শেষ হবে আমার জানা নেই। পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়ম হল – কোনো মেয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেয় সে আর ফিরে তাকাবে না পিছনে, সে আর তাকাবে না। যে ঝড়ের রাতে হাঁটছে, সে অপেক্ষা করবে মেঘ কেটে বাতাস শান্ত হওয়ার জন্য – এই তো স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ঝড়ের রাতেও তার সাথে যার অভিসার হয়েছিল, সে জানে আর কখনো আসবে না তার জীবনের মেরুদন্ড, তবু সে খুঁজে যায় তার চিহ্ন, স্মৃতি, মাদকতার ঘোর, কথার রেশ, হারানো সুরের অনুরনন। সব শেষ, আর কখনো সে ফিরে পাবে না তাকে তার মতো করে, যেভাবে সে পেয়েছিল, যে ভাবে সে চেয়েছিল। তবু যে রাস্তা ধরে সে তার কানে তার কথা নিয়ে হাঁটত, যে রাস্তায় নেমে তার জন্য তার আকুল অপেক্ষা ছিল, যে বাতাসে মিশে আছে তার নিষ্কলুষ প্রেম, অভিমান – সেখানে সে আসে তার ঘ্রান নিতে।
সে আর না এলেও চলে, তবু সে আসে, কারন সেখানে এলে সে তাকে অনুভব করে। সে জানে, সেই অনুভূতি কাউকে আন্দোলিত করবে না, তবু সে আসে তার সাথে মনে মনে কথা বলতে। সে যে মানতে পারে না, যাকে সে তার জীবনের এতটাই অংশ করে নিয়েছে, যাকে ছাড়া তার দিন অতিক্রান্ত হত না, যার সাথে কথা না হলে তার রাতে ঘুম আসত না – সে আর আসবে না, কখনো। জীবনের এক নতুন গল্প শুরু হয়েছে তার, তার দোষ নেই, তার ঠিকানা দরকার অন্ধকার পেরিয়ে আলোয় বাঁচার। তবু সে চলে যাওয়ায় একজনের মনে যে বিভীষিকাময় অন্ধকার নেমে এসেছে, সেই অন্ধকার কাটানোই এখন জীবনের সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষা। যে আসবে না, যার আর আসা সম্ভব নয়, যার আর আসার রাস্তা নেই, যার আর আসা উচিত নয় – সে ভালো থাকুক তার জীবনে। জানালা খোলা থাকবে সারাজীবন, দখিনা বাতাসের জন্য তার চির অপেক্ষা রইল। আবার কোনো হিমেল শীতের পরের কোনো বসন্তে সে যেন ফিরে আসে সেই জানালা দিয়ে। আবার কোনো নিঝুম রাতে সে যেন ফিরে আসে কোজাগরীর আকাশ হয়ে। ❤️