খুব দিশাহারা লাগছে। যখনই সময় থেকেছে, তোমার সাথে কথা বলেছি। কখনো ভালোবাসা, কখনো রাগ, অভিমান নিয়ে সময় কেটেছে। কথা বলেই মন ভালো করে কাজে ফিরেছি। এখন খুব নিঃসঙ্গ লাগছে। সেই সময়গুলো কীভাবে কাটছে, আমি কোথায় একটু মনের শান্তি পাবো, কী করে আমার মন একটু ভালো থাকবে – কোনো দিশা পাচ্ছি না। আমার পৃথিবীটা এতটাই তোমাকে নিয়ে ছিল, তুমি চলে গেলে কী হবে তার কোনো সমাধান আমার তৈরি ছিল না। আমার কাজ, আমার ভালো লাগার জিনিসগুলো – সবই যেন নিরর্থক লাগছে। মন থেকে সব শক্তিটুকু নিঃশেষ হয়ে গেছে। তুমি ছাড়া কোনো কিছুই আমাকে খুশি করতে পারছে না, অথচ তুমি এখন অসম্ভবের রাস্তায়। বই এর পাতা, গান, খেলা – কিছুই দুই মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। এক মহাকাশ কথা থেকে এক মহাকাশ বিষন্নতা ঘিরে ধরেছে আমাকে। কী নিদারুন শূন্যতা! মহাকাশে সর্বদা সূর্য জ্বলজ্বল করে, অথচ সেখানে একফোঁটা রঙ নেই, শুধুই কালো, কারন সেখানে কোনো বাতাস নেই। আমার মনে সর্বদা জ্বলজ্বল করছ তুমি, অথচ সব রঙ হারিয়ে মনের মাঝে নিকষ কালো অন্ধকার, সেখানে তোমার ভালোবাসা নেই, কথা নেই। আবেগের কথায় যতই তোমার মাঝে আমার অস্তিত্ব থাকুক, যতই আমার মাঝে তোমার অস্তিত্ব থাকুক – আসলে তো তুমি হারিয়েই গেলে। এরপর স্মৃতিচারনা ছাড়া আর তো কোথাও আমরা দুজন নেই। অথচ সব মেনে নিয়ে পথ চলা ছাড়া কোনো উপায় নেই, কিন্তু সেই উপায় মেনে নিয়ে পথ চলার শক্তিই যেন নেই এখন। তুমি তোমার জীবনে এগিয়ে যাও স্বাভাবিক ছন্দে। ঈশ্বরের কাছে দিনরাত্রি প্রার্থনা করছি – আমাকে একটু শক্তি দাও জীবনের এই সর্বগ্রাসী যন্ত্রনা, বিষন্নতা, হতাশার অন্ধকার কাটিয়ে উঠতে। যাকে আমার অস্তিত্ব ভেবেছি, তাকে অন্তরে রেখে আমার অস্তিত্ব রক্ষার শক্তি দাও। আমার সব জানা, তবু কেন আমি এত অসহায়! উপায় থাকলে সর্বস্ব ত্যাগের বিনিময়ে আমি নিজের করে নিতাম যাকে, সেই আমার অমূল্য সম্পদ হারিয়ে ফেলে আমি যে কী নিঃস্ব হয়ে গেছি – কে বুঝবে আমার কান্না?