গর্ব

আজ আমি এক অভিমান-অভিযোগ-প্রত্যাশা মুক্ত বিহঙ্গ। এই কদিন আগেও আমার সারাজীবনের গর্ব করার মতো একটি ভালোবাসা বেসেছিলাম। আমার তাকে পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল না, তবু আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম। আমার তার সাথে ভবিষ্যতের রাস্তায় হাত ধরাধরি করে পথ চলার প্রত্যাশা ছিল না, তবু আমি তাকে এক মহাসমুদ্র ভালোবেসেছিলাম। সে আমাকে বারবার আঘাত করেছে, ভালোবেসেছে, মায়ায় বেঁধেছে, নিষ্ঠুরভাবে দূরে ঠেলেছে – তবু আমি তাকে ভালোবেসেছি আবার। ভবিষ্যত ছিল না বলে সে আমাকে একদিনের জন্যও একবার পাগল করা ভালোবাসা দেয়নি, আমি ছুটে গেছি তার কাছে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায় এক ফোঁটা ভালোবাসার টানে, তবু আমি তাকে আমার বুকের পাঁজর ভাবতাম। মাসের পর মাস অন্য কারো সাথে মনের কথা চলছে জেনেও ভালোবেসেছি। আজও আমার দৈনিক অভ্যাসে তার শূন্যতা, আজও আমার কথার নিঃসঙ্গতা। আমার শুধু সে ছিল কথার সাথী, আজও, চিরকাল। আমি আর কোথাও সুখ পাইনা, সে পায় কিনা জানিনা।

আমি আজও গর্ব করি, আমি তাকে কেমন করে ভালোবেসেছি। ও প্রিয়তমা, তোমার উপর থেকে কারো প্রত্যাশা সরিয়ে দাও, তোমার কাছ থেকে কারো পাওয়ার আশা সরিয়ে নাও, উপেক্ষার অনাদরে ডুবিয়ে দাও কাউকে আকন্ঠ, ছিঁড়ে দাও ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনার সুতো – তুমি এই জনবহুল মহাবিশ্বে একাকী ক্রন্দন করে বলবে – “কেউ নেই আমার, তুমি ছাড়া এই ব্রহ্মান্ডে কেউ নেই আমার।”

আজ তুমি সম্পর্কের নামে আদরনীয়া, আজ তুমি চাওয়া-পাওয়ার খেলাঘরে সুখী এক মমতাময়ী স্ত্রী। জীবনে চলার রাস্তায় তোমার শান্তিতে কোথাও আমি আর আটকাবো না, তবু বাতাসে বাতাসে নিঃশব্দে এক চিৎকার তরঙ্গ তুলছে তোমার নামে – “এমন ভালোবাসা জীবনে এসেছিল বৈশাখী ঝড়ের মতো, আমায় ভাসিয়ে দিয়েছিল শ্রাবনের ধারার মতো, ঝরে গেল শরতের শিউলি ফুলের মতো টুপ করে।”

তোমার জীবনে কোথাও আমার অভাব থাকবে না, তবু আমার একান্ত গোলাপঘরে সুঘ্রানভরা গর্বের এই ভালোবাসা থাকবে, আমার নিজের মতো করে – যত্নে, শ্রদ্ধায়, আদরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *